UK-visa-now-from-India

 

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য ৩ থেকে ৫ দিনের ভিসা সার্ভিস চালু রয়েছে।ইউকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে,২০১৫ সালে ব্রিটেনে অস্থায়ী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ১১ দিন ও যারা স্থায়ীভাবে ব্রিটেনে থাকার আবেদন করছেন তাদের ক্ষেত্রে ৩৭ দিনে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। অথচ যেখানে ননসেটেলমেন্ট আবেদনকারীদের বেলায় ১৫ দিন ও সেটেলমেন্ট আবেদনকারীদের বেলায় ৬০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বাধ্য ব্রিটিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (ইউকেভিএ)। এক্ষেত্রে আবেদনকারীদের পাসপোর্ট ও যাবতীয় ডক্যুমেন্ট ঢাকাতেই থাকছে। শুধু ইলেক্ট্রনিক ডক্যুমেন্ট যাচ্ছে দিল্লিতে।সেখান থেকে শুধুমাত্র ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে।ব্রিটিশ সরকার ও পার্লামেন্টের পিটিশন টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ব্রিটিশ ভিসা আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত দিল্লি থেকে দেওয়ার ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকবে।ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের একটি অনলাইন পিটিশনে ১১ হাজার ৫০ জন স্বাক্ষর করে ব্রিটিশ ভিসা অফিস দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সমর্থন দেওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট টিমের জবাবে বলা হয়,ব্রিটেনের করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ব্রিটিশ ভিসা পদ্ধতি নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে ঢাকা থেকে ভিসা অফিস দিল্লীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর একারণে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের কোনও পরিবর্তন ঘটবে না। তবে আগের মতোই বাংলাদেশের আবেদনকারীরা ঢাকা ও সিলেটে তাদের ভিসা আবেদন জমা দিতে পারবেন।বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্ট্যান্ডার্ড ভিসা সার্ভিসের মতোই বাংলাদেশে সেবা দিচ্ছে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারগুলো।

তবে ঢাকায় ব্রিটিশ ভিসা অফিস ফিরিয়ে আনার দাবির পক্ষে ব্রিটেনে যারা কাজ করছেন তারা সরকারের এধরনের তথ্যে সন্তুষ্ট নন। তারা বলছেন, ২০১৪ সালের আগে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটিশ ভিসা আবেদনকারীদের ৭০% ভিসা পেলেও ২০১৫ সালে ভিসা প্রাপ্তির হার ১০% এ নেমে এসেছে, এর কারণ বাংলাদেশীদের ভিসার সিদ্ধান্ত হচ্ছে দিল্লিতে।

তাজ সলিসিটরের প্রিন্সিপাল সলিসিটর তাজ শাহ বলেছেন, তার একজন মক্কেল ইতোপূর্বে তিনবার ব্রিটেনে এসেছেন এবং সময়মত ফিরে গেছেন, কিন্তু সম্প্রতি তিনি তার নাতিকে দেখতে ব্রিটেনে আসার আবেদন করে প্রত্যাখাত হয়েছেন।  এধরণের বহু আবেদন কোন কারণ ছাড়া অ্যাপিল রাইট না দিয়েই বাতিল করছে দিল্লি। এসব কারণ উল্লেখ করে সলিসিটর তাজ শাহ ব্রিটেনের হোম সেক্রেটারি থেরেসা মে‘র কাছে চিঠি লিখে দিল্লির ভিসা অফিসারদের অদক্ষতা ও অবহেলার বিষয়টি অবহিত করেন।দিল্লির ভিসা কর্মকর্তাদের অবহেলার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারি তাজ সলিসিটরকে দুঃখ প্রকাশ করে চিঠিও লিখেছেন।তবে ব্রিটিশ ভিসা অফিস দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভয়েজ ফর জাস্টিস-এর সাধারণ সম্পাদক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, চেয়ারপারসন  গ্রেইটার সিলেট ওয়েলফেয়ার ও ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল ইউকে‘র চেয়ারপারসন নূরুল ইসলাম মাহবুব, ব্রিটিশ কারী এ্যাওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী এমবিই সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠন।

 

Originally written by – তানভীর আহমেদ